কমিটি নিয়ে বিতর্ক পিছু ছাড়ছেনা বরিশাল বিএনপি’র

শনিবার, অক্টোবর ১, ২০২২

বরিশাল : বরিশাল মহানগর বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির কর্মকান্ড নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছেনা। দীর্ঘদিন রাজপথ ছেড়ে ঘরে থাকা নেতা কর্মীদের নিয়ে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষনার পর মাঠে থাকা মজিবর রহমান সরোয়ার সমর্থকরা রাজপথ ছেড়ে ঘরে উঠেছে।

দল গোছাতে যাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাদের হয়ে মাঠে কাজ করতে নারাজ বিএনপির অপর পক্ষের নেতা কর্মীরা। যাও রয়েছে তারা ঘরবন্দি, নেই রাজপথে। এদিকে নতুন আহ্বায়ক কমিটি দল গোছাতে ৩০টি ওয়ার্ডে কর্মী সভা করে ওয়ার্ড কমিটি গঠন সহ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে। এর মাঝে মজিবর রহমান সরোয়ার সমর্থকরা অংশ না নিলেও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি বলে যাচ্ছে তারা এক হয়ে মাঠে আছে সরকার পতনের আন্দোলনে। তবে বাস্তবে তার চিত্র পুরো উল্টো।

নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে নতুন করে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সভা, সমাবেশ করার ক্ষেত্রে এর আগে একাধিকবার স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রতির অভিযোগ উঠলেও তার দিকে কান না দিয়ে এরই মধ্যে ৬টি ওয়ার্ডের নতুন কমিটির সদস্যদের নাম প্রকাশ করেছে মহানগর বিএনপি। তা নিয়েও উঠেছে মতবিরোধ।

আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের কোলঘেষা নেতা কর্মীদের দিয়ে কমিটি করে দলের ত্যাগী নেতা কর্মীদের বাদ দিয়ে কমিটি করার অভিযোগ করেছে অনেকেই। তাছাড়া ঘোষিত কমিটির একই ব্যাক্তি ওয়ার্ড কমিটি সহ তিনটি পদে থাকার অভিযোগ রয়েছে একাধিক।

এদিকে নগরীর ২৩ নং ওয়ার্ডে কমিটি ঘোষনার আগেই নেতা কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে পদ পদবি থেকে বঞ্চিত হবার শংকা করছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা কর্মী জানিয়েছেন, মহানগরের সদস্য সচিবের কাছের ব্যাক্তিদের পদে আশিন করার বন্দবস্ত শেষ পর্যায়ে। যার প্রমান ৬টি কমিটির দেয়া পদবঞ্চিতদের মাঝে বিরাজ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতা কর্মীরা শংকা করছেন সদস্য সচিব মীর জাহিদের আর্শিবাদপুষ্ট মো. কামাল হাওলাদার কে নিয়ে। যে দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ করে বর্তমানে নব্য বিএনপি নেতার পরিচয় দিচ্ছেন।

নেতাকর্মীদের প্রশ্ন সে কি করে আহ্বায়কের পদে আসে। তাছাড়া সদস্য সচিব নিজেই সবাইকে বলে দিয়েছেন কামালের ব্যাপারে কেউ কিছু বলবে না। এতে আরও ক্ষুব্ধ হচ্ছে ত্যাগি নেতাকর্মীরা। তারা মনে করছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার সরকারবিরোধী আন্দোলন এতে করে অনেকটাই ব্যাহত হবে। একই শংকায় দিন পারকরেছে নগরীর অন্যান্য ওয়ার্ডের নেতা কর্মীরা। এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার পন্থী নেতা কর্মীরা কোনঠাশা হয়ে পড়েছে। তাদের কমিটিতে অনেকটাই কুক্ষিগত করে রেখেছে বলে অভিযোগ নেতা কর্মীদের।

এ বিষয়ে মহানগর আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন, দলের জন্য যাদের ত্যাগ আছে তাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নতুন কমিটি দিয়ে একপক্ষের মতবিরোধ থাকে এটা সব সময় হয়ে আসছে। কে সরোয়ার আর কে ফারুক বা জাহিদের লোক তা দেখা এখানে হয়নি। কেউ ঘরে বসে থাকলে তাকে ডেকে তো আর পদ দেয়া যাবেনা। যারা সমলোচনা করে তারা ঘরে বসে করছে।

অপরদিকে ২৩ নং ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে তিনি বলেন নব্য বিএনপি কিংবা নিজস্ব লোকের জায়েগা হবেনা। দলের জন্য যাদের ত্যাগ ও কর্মকান্ড আছে তাদের দিয়েই কমিটি হবে। শুক্রবার (৩০) সেপ্টেম্বর রাত পেনে ৯ টায় সদররোডস্থ জেলা ও মহানগর বিএনপি দলীয় কার্যলয়ে ঘোষিত ওয়ার্ড কমিটির নাম গুলো প্রচার করেন মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও দপ্তর সম্পাদক জাহিদুর রহমান রিপন ও মহানগর বিএনপি সদস্য ইয়াসিন আরাফাত।

মহানগরের ঘোষিত কমিটি গুলো হচ্ছে ৮, ১০, ১১, ১৩, ১৪ ও ৩০ নং ওয়ার্ড। নগরের ৮নং ওয়ার্ডের মোসারেফ হোসেন নেগাবান (টিপু নেগাবান)কে আহ্বায়ক সহ ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ১০ নং ওয়ার্ডে মোঃ শাহাদৎ হোসেন তোতা আহ্বায়ক সহ ২৭ সদস্য আহ্বায়ক কমিটি গঠন, ১১ নং ওয়ার্ডে মোঃ হুমাউন কবির কে আহ্বায়ক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন, ১৩ নং ওয়ার্ডে মোঃ মতিউর রহমান মিঠুকে আহ্বায়ক করে ২১ সদস্য কমিটি গঠন, ১৪ নং ওয়ার্ডে মোঃ রফিকুল ইসলাম মঈনকে আহ্বায়ক করা সহ ২১ সদস্য কমিটি গঠন ও মহানগরের ৩০ নং ওয়ার্ডে মোঃ সজিব বেগ মিসাদকে আহবায়ক করা সহ ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।