বিএনপির ‘৩০ আসনে’র বক্তব্য তাদের বেলাতেই প্রযোজ্য : তথ্যমন্ত্রী

শনিবার, অক্টোবর ১, ২০২২

ঢাকা : তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির ‘৩০ আসনে’র বক্তব্য তাদের বেলাতেই প্রযোজ্য, ইতিহাস এর সাক্ষী।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ইউল্যাব প্রাঙ্গণে সাংবাদিকরা শুক্রবার গাজীপুরে বিএনপি মহাসচিবের দেয়া বক্তব্য ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ৩০টির বেশি আসন পাবে না’ এ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এ কথা বলেন।

ড. হাছান বলেন, ‘২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিএনপিনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন যে, সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ৩০টি আসনও পাবে না। ২০০৮ সালে দেশের ইতিহাসে অত্যন্ত সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছিল। ভাগ্যের এমনই নির্মম পরিহাস, বিএনপি ২৯টি আসন পেয়েছিল, ৩০টি পূর্ণ করতে পারেনি। সুতরাং মির্জা ফখরুল সাহেব যে কথাটি বলেছেন, সেটি বিএনপির বেলাতেই প্রযোজ্য।’

‘আগামীতে যে নির্বাচন হবে, আওয়ামী লীগ আবারও ধস নামানো বিজয় অর্জনের মাধ্যমে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করবে ইনশাআল্লাহ’ বলেন তিনি।

‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিএনপি নির্বাচন হতে দেবে না’ এর জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উনারা স্বপ্ন দেখতে পারেন, স্বপ্ন দেখতে দোষ নেই। তবে এই স্বপ্ন তাদের জন্য দু:স্বপ্ন, কারণ এটি কখনো বাস্তবায়িত হবে না।’

আইন অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান বলেন, অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেমন ভারতে, ইংল্যান্ডে, অস্ট্রেলিয়ায়, জাপানে এবং কন্টিনেন্টাল ইউরোপের অন্যান্য দেশে যেভাবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হয়, তখন চলতি সরকার যেমন নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে, আমাদের দেশেও সেভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

‘বিএনপি রাজনীতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না’ এ প্রশ্নের জবাবে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি তো সংঘাত চায়। তারা রাজনীতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মুন্সিগঞ্জে নিজেদের কর্মীকে নিজেরা মেরেছে, ভবিষ্যতেও মারবে এবং সরকারের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করবে। তারা তো এই রাজনীতিই করে। ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা তো তারাই করেছিল। আহসান উল্লাহ মাস্টার, কিবরিয়া সাহেবকেও তো তারাই হত্যা করেছিল।’

ড. হাছান বলেন, ‘বিএনপির তারা তো হত্যার রাজনীতিই করে। জিয়াউর রহমানও তো হত্যার মাধ্যমেই ক্ষমতা দখল করেছিল। আর বেগম জিয়াও কম যাননি। তারা আসলে সংঘাতময় রাজনীতি করে, সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। কিন্তু দেশের মানুষ সেটি হতে দেবে না।’

‘স্বপ্ন আর প্রচেষ্টা জীবনযুদ্ধ জয়ের চাবিকাঠি’

এর আগে ইউনিভার্সিটি অভ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) অষ্টাদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক ড. হাছান মাহমুদ।

বিশ্ববিদ্যালয়কে মানুষকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার কারখানা হিসেবে বর্ণনা করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জীবন একটি যুদ্ধক্ষেত্র, উজান ঠেলে পাড়ি দেওয়া, স্রোতের বিপরীতে এগিয়ে চলা। জীবন চলার পথে অনেক প্রিয়জনকে হারাতে হতে পারে, খানিক থমকে গেলেও যুদ্ধ বন্ধ করা যাবে না।

ড. হাছান এসময় ভারতের প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামকে উদ্ধৃত করে বলেন, জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে যেমন স্বপ্ন থাকতে হবে, তেমনি স্বপ্নের সাথে যুক্ত করতে হবে প্রচেষ্টা। ঘুমিয়ে স্বপ্ন নয়, সে স্বপ্ন ঘুমুতে দেয় না সেই স্বপ্ন আর প্রচেষ্টা মিলে এক ধরনের ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফোর্স তৈরি হবে, যা মানুষকে জীবনে জয়ের পথে এগিয়ে নেবে। লতা মুঙ্গেশকর, স্টিভ জবস প্রমুখের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, জীবন সংগ্রামে ধর্ম-বর্ণ-চেহারা নয়, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যাবসায়ই বিজয়ের চাবিকাঠি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইমরান রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ এমপি বিশেষ বক্তা এবং ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী আনিস আহমেদ স্বাগত বক্তার বক্তব্য দেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি কেক কাটেন তারা।

সমকাল ও চ্যানেল আই কার্যালয়ে তথ্যমন্ত্রী

এ দিন দৈনিক সমকাল পত্রিকার ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের ২৪তম বছরে পদার্পণ উপলক্ষে প্রতিষ্ঠান দু’টির কার্যালয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

তোয়াব খানের মৃত্যু এক কিংবদন্তি সাংবাদিকের জীবনাবসান : তথ্যমন্ত্রী

দৈনিক বাংলার প্রথম সম্পাদক, বঙ্গবন্ধুর প্রেস সচিব, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য সাংবাদিক তোয়াব খানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দু:খপ্রকাশ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘তোয়াব খানের মৃত্যু এক কিংবদন্তি সাংবাদিকের জীবনাবসান, যিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সাংবাদিকতায় নিয়োজিত থেকেছেন।’

শনিবার দুপুরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৭ বছর বয়সে তার ইন্তেকালের সংবাদে শোকাহত ড. হাছান প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করেন ও তার শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তথ্যমন্ত্রী তার শোকবার্তায় বলেন, ১৯৫৩ সালে সাপ্তাহিক জনতার মাধ্যমে সাংবাদিকতায় যুক্ত হওয়া তোয়াব খান মৃত্যুকাল পর্যন্ত প্রায় সাত দশক ধরে দেশের সাংবাদিকতায় যে অনন্য অবদান রেখেছেন, তা নজীরবিহীন।

তোয়াব খানের জীবনের দিকে তাকিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তোয়াব খান। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত জাতির পিতার প্রেস সচিব ছিলেন। প্রধান তথ্য অফিসার ও প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকের দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রচারিত তার ‘পিণ্ডির প্রলাপ’ অনুষ্ঠান ছিল মুক্তিকামী মানুষের প্রেরণা। তিনি চলে গেছেন কিন্তু দেশের মানুষ তাকে ভুলবে না।’