সরকারের তথাকথিত উন্নয়নে জনগণ ‘সাফার’ করছে: ফখরুল

বুধবার, অক্টোবর ৫, ২০২২

ঢাকা: উন্নয়নের নামে ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকারের দুর্নীতির কারণে জনগণকে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আসাদগেটে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, তথাকথিত উন্নয়নের নামে সরকার দুর্নীতির কারণে মানুষকে দুর্ভোগে ফেলছে। সরকার এত চিৎকার-চেঁচামেচি করছে, সবসময় বলছে- আমরা বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে গেছি। বলা হচ্ছে, প্রয়োজনের তুলনায় উৎপাদন আরও বেশি হচ্ছে। গতকালকের ব্যাপারটা (লোডশেডিং) হচ্ছে অস্বাভাবিক ব্যাপার।
হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে গেছে, সারাদেশে বেশিরভাগ এলাকায় ছিল না। প্রায় আট ঘণ্টা এই লোডশেডিং চলে। এর থেকে বোঝা যায় সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের নাম করে বহু প্রজেক্ট করেছে, টাকা-পয়সা বানিয়েছে। শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে এ ধরনের একটা বড় রকমের দুর্যোগের মধ্যে, বিপর্যয়ের মধ্যে জাতিকে তারা ফেলে দিয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, গতকালের লোডশেডিংয়ে ব্যাপক সমস্যা হয়েছে, নেট বন্ধ হয়ে গেছে, বিদ্যুতের মাধ্যমে যেসব কলকারখানা চলে তা বন্ধ হয়ে গেছে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে, সন্ধ্যার আগে যে কৃষিক্ষেতে সেচের ব্যবস্থা করা হয়, তাও বন্ধ হয়ে গেছে। সবমিলিয়ে জাতি অসহনীয় পরিস্থিতি অনুভব করেছে।

রাজধানীর সড়কের চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, রাস্তার যে বিভ্রাট ঢাকা শহরে, টঙ্গী থেকে উত্তরা পর্যন্ত আসতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। সব ক্ষেত্রে দেখবেন- উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটাই হয়ে গেছে।

তথ্য না দেওয়ার ব্যাপারে যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে সে বিষয়ে ফখরুল বলেন, এটা ভয়াবহ ব্যাপার। আমরা যে বলছি, কর্তৃত্ববাদী সরকার তার যে বহিঃপ্রকাশ, তারা যে আরও নিয়ন্ত্রণের দিকে যাচ্ছে, দেশকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করবে, দেশের মানুষকে তথ্য থেকে বঞ্চিত করবে- এটা তারই বহিঃপ্রকাশ। এখন আর কোনো ফাঁক রইল না এ কথা বলতে যে- স্বয়ং রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে যদি এই সার্কুলার আসে, তাহলে এই দেশে যে পুরো কর্তৃত্ববাদী হয়ে গেছে- সেটায় আর সন্দেহ নেই।

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সার্বিকভাবে প্রোপার প্ল্যানিংয়ের মাধ্যমে তারা (সরকার) কিছু করেনি, সে দিকে তারা মনোযোগী হয়নি। দুর্নীতির জন্য যা যা করা দরকার, তাড়াহুড়া করে করেছে। এ জন্য একটি পলিটিক্যাল প্রাইস জনগণকে পে করতে হচ্ছে। এই পলিটিক্যাল প্রাইস তাদের সুবিধার জন্য।

এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে। বিভিন্ন প্রজেক্ট নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল দুর্নীতি। এ কারণে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব হয়নি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার অপরিকল্পিতভাবে পাওয়ার ষ্টেশন করেছে। গতকালের মতো বিপর্যয় আরও হবে। সরকার যে ধরনের প্রকল্প নিয়েছে, তার জন্য জনগণের এ ধরনের সাফার আরও হবে।