জাপোরিঝিয়া ছেড়ে যাচ্ছেন রুশ সেনারা 

Tuesday, November 29th, 2022

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রুশ বাহিনী একের পর এক মুহুর্মুহু হামলা করেছে ইউক্রেনে। আর ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ আগ্রাসনে রুশ সেনাদের তার্গেট ছিল ইউক্রেনকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করা তারই অংশ হিসেবে তারা লক্ষ্যবস্তু হিসেবে হামলা করেছে বিদ্যুৎকেন্দ্র সমূহে।

তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করার তালিকায় রয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র। বড় ধরনের হামলার শিকার হয়েছে জাপোরিঝজিয়া পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে। রুশ সেনারা এটি হামলা চালিয়ে দখলে নিয়ে নেয়ার পর ব্যাপক বিদ্যুৎ সংকটের মুখে পড়ে ইউক্রেন।

এবার রুশ বাহিনী জাপোরিঝজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের রাষ্ট্র-পরিচালিত পারমাণবিক জ্বালানি কোম্পানির প্রধান।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পেত্রো কোটিন বলেন, রাশিয়ার সেনারা জাপোরিঝজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ছেড়ে চলে যেতে পারে, এমন লক্ষণ দেখতে পাচ্ছে তার কোম্পানি। তিনি বলেন, ‘রুশ সেনারা কেন্দ্রটি ছেড়ে যাচ্ছে এমন কথা বলার সময় এখনও আসেনি। তবে আমরা বলতে পারি, তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

ওই পেত্রো কোটিন বলেন, পামাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করা হতে পারে আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কাছে।

তিনি জানান, রুশ বাহিনী এই কেন্দ্রে সামরিক সরঞ্জাম, সেনাসদস্য এবং ট্রাক এনে রেখেছে, যেগুলোতে সম্ভবত আছে অস্ত্র ও বিস্ফোরক। বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রাঙ্গণে মাইনও পেতেছে তারা।

এ বিষয়ে বিবিসির তথ্যে ওঠে এসেছে, ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর মার্চ মাসের শুরুতেই রুশ বাহিনী এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ইউক্রেইনের বিভিন্ন শহরে হামলা চালানোর জন্য তারা এই কেন্দ্রটিকে ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহার করেছে।

উল্লেখ্য, ‘গণহত্যার সামিল’: চলমান রুশ হামলার কারণে ইউক্রেনজুড়ে লাখ লাখ মানুষ এই শীতে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় রুশ বাহিনীর হামলাকে গণহত্যার শামিল বলে উল্লেখ করেছে ইউক্রেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনজুড়ে লাখ লাখ মানুষ চলমান রুশ হামলার কারণে এই শীতের সময়ে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। ১৪টি অঞ্চল ও রাজধানী কিয়েভে বিদ্যুতের ব্যবহার সীমিত রয়েছে।

জাতিসংঘের জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, গণহত্যার ক্ষেত্রে একটি জাতীয়, জাতিগত, বর্ণ কিংবা ধর্মীয় কোনও গোষ্ঠীকে পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংসের অভিপ্রায় থাকে। সেক্ষেত্রে এসব গোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা বা গুরুতর ক্ষতিসাধন কিংবা শিশুদের জোর করে অন্যখানে স্থানান্তরের মতো কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত। সে হিসাবে রাশিয়া গণহারে মানুষের ক্ষতি করার টার্গেট নিয়েছে, যাকে গণহত্যার প্রচেষ্টা বলে অভিযুক্ত করা যেতে পারে।