১০ তারিখের সমাবেশে গণতন্ত্র মঞ্চের সমর্থন

Wednesday, December 7th, 2022

ঢাকা : আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশে রাজনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন দিয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ। জোটের নেতারা বলেন, বিএনপির এই শান্তিপূর্ণ সমাবেশে সরকার যেভাবে উস্কানি দিচ্ছে তাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সরকারী দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তার দায় নিতে হবে।

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) বেলা ২টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নাগরিক ঐক্যের অফিসে বিএনপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চের বৈঠক শেষে তারা এসব কথা বলেন।

বৈঠক শেষে গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক দল বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘সরকারের পরিবর্তন ও বর্তমান অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য যুগপৎ আন্দোলন করতে বিএনপি এবং গণতন্ত্র মঞ্চ ঐক্যমত হয়েছে। আন্দোলনকে কিভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় তার জন্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি লিয়াজো কমিটি গঠন করা হবে। আগামী ১০ তারিখে আগে কমিটি গঠন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির আগামী ১০ তারিখের সমাবেশে গণতন্ত্র মঞ্চের রাজনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন দিয়েছে আজকের বৈঠক থেকে।’

সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আজকে এখানে যারা উপস্থিত আছি সবাই শুরু থেকে লড়াইয়ে আছি গত ১৩-১৪ বছর ধরে। পরস্পরের মধ্যে একটা সর্ববৃহৎ ঐক্য গড়ে তোলে এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার কথা ভাবছিলাম যে যার জায়গা থেকে। বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলবার জন্য হয়তো এক মঞ্চ কার্যক্রর হবে না, তাই আমরা যুগপৎ প্রচেষ্টার মধ্যে যাই।’

যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলার সর্বশেষ পর্যায়ে এসে গেছে বলে উল্লেখ করে মান্না বলেন, ‘বড় হিসেবে বিএনপির পক্ষ থেকে যেমন উদ্যোগ ছিলো অন্যান্য দলের সঙ্গে আলোচনা করার, তেমনি আমাদের জোটের পক্ষ থেকেও সবার সঙ্গে কথাবার্তা বলেছি। সেই হিসেবে আজকে বিএনপি নেতারা আমাদের অফিসে এসেছে।’

বিএনপি ও গণতন্ত্র মঞ্চের যুগপৎ আন্দোলনের সূচনা হচ্ছে বলে উল্লেখ করে মান্না বলেন, ‘বিএনপি এবং গণতন্ত্র মঞ্চ যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলবে এই সরকারের পতন ঘটিয়ে। তারপরও যেটা আমরা বলতে পছন্দ করি, সেটা হলো সরকার ও শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন করবো। এই ক্ষেত্রে বিএনপির সঙ্গে আমাদের বহু ক্ষেত্রে মতের মিল দেখতে পারছি। তারা বেশকিছু প্রস্তাবনা আমাদেরকে কাছে পাঠিয়েছে, আমরা কিছু প্রস্তাবনা তাদের কাছে পাঠিয়েছি। সেখানেও আলোচনা অব্যাহত আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আলোচনা বিএনপির ১০ তারিখের সমাবেশের বিষয়টি এসেছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে অগ্রসর করবো। অগ্রসর করার জন্য যে দুইটি ভিত্তি সেটা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবো। লিয়াজো কমিটি নিজেদের মধ্যে আরও ঘন ঘন কথা বলে আন্দোলনকে এগিয়ে নিবে। আশা করি আগামীতে বিএনপি ও গণতন্ত্র মঞ্চকে মাঠে যুগপৎ আন্দোলনে দেখতে পাবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন।

বৈঠকে গণতন্ত্র মঞ্চের শরিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন স্বপন, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম, গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান প্রমুখ।