ঘোড়াঘাটে আমন ধানের বাম্পার ফলন ও দাম পেয়ে কৃষকরা খুশি

Thursday, December 8th, 2022

মাহতাব উদ্দিন আল মাহমুদ, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : শস্য ভান্ডারখ্যাত দিনাজপুর জেলার খাদ্য উদ্বৃত্ত উপজেলার ঘোড়াঘাটে ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। বন্যা ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাম্পার ফলন ও দাম পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।

ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত বস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। কেউ আঁটি বেঁধে ধানের বোঝা কাঁধে করে, কেউ ভ্যানে আবার কেউ গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে। কেউ বা মেশিনে। ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এই মৌসুমে আমন আবাদের ্অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাইব্রীড ৫৯০ হেক্টর, উফশী ১০ ৯১০ হেক্টর, তবে আমন চাষ করা হয়েছে ১১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। প্রায় ৭০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। আমন ধানের ফলন হয়েছে হাইবীড হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন ৩.৭ মেট্রিক টন। ৫৯০ হেক্টরে চাল উৎপাদন ২১৮৩ মেঃ টন, উফশী ফলন হয়েছে হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন ৩.১৫ মেট্রিক টন। ৮০০০ হেক্টরে চাল উৎপাদন হয়েছে ২৭৩৮৩ মেঃ টন। তবে চলতি মৌসুমে কৃষি বিভাগ তৎপর থাকায় রোগবালাই নেই বললেই চলে।

ঘোড়াঘাট বুলাকীপুর ইউনিয়নের কালুপাড়া গ্রামের মোঃ হারুনর রশীদের সাথে কথা বললে তিনি জানা যান, আমি ১০ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। এবার বৃষ্টি পর্যাপ্ত না হওযায় সেচ দিতে হয়েছে পোকার আক্রমন কম হওয়ায় বিঘা প্রতি খরচ ১২ থেকে ১৪ হাজার। সেই হিসেবে ফলন ভালো হওয়ায় বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২২ মন ধানের ফলন হয়েছে। বিঘা প্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাভ হবে।

৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার উপজেলার রাণীগঞ্জ হাট ঘুরে জানা গেছে,বাজারে চিকন স্বর্ণা -৫ ধান প্রিতি মন ১২৪০-১২৫০ টাকা. মোটা ১১২০-১১৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। গত সোমবার এ হাটে প্রকার ভেদে ১২৭০-১২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
উপজেলার সিংড়া ইউনিয়নের ভর্নাপাড়া গ্রামের কৃষক মোঃ মাসুদ জানান, তিনি প্রায় ৬ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপন করেন। তিনি বিঘা প্রতি ২০-১৮ মন করে ফলন পেয়েছেন। গুয়াগাছী গ্রামের মোঃ আঃ রাজ্জাক জানান, তিনি ৭ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপন করেছেন।তিনি বিঘা প্রতি ২০-২২ মন করে ফলন পেয়েছেন।

ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি ্অফিসার মোঃ এখলাস হোসেন সরকার বলেন, ঘোড়াঘাট উপজেলা অবস্থান গত কারনে উচু এবং ধান চাষের উপযোগী। এ বছর আমন মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি কম ছিল। এতে কৃষকের সাময়িক সমস্যা হয়েছিল। তবে আবহাওয়া ধান চাষের অনুকুলে ছিল। আবার পোকা ও অন্যান্য রোগের আক্রমন কম হওয়ায় ধান চাষে খরচ কম হয়েছে। সেই সাথে ধানের ফলন বেশি এবং দামও বেশি পাচ্ছে কৃষকরা। ফলে কৃষকরা আনন্দে আতœহারা। আমরা চেষ্টা করেছি কৃষকদের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করার। মাঠে খুব ভালো ফলন হয়েছে। ধানের বর্তমান বাজারও অনেক ভালো। দাম পেয়ে কৃষকরা খুবই খুশি।

সিংড়া ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন জানান, ধানসহ অন্যান্য লাভজনক শষ্য ফসল উৎপাদনে প্রতিনিয়ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। যাতে কৃষকরা ফলন পায়। রোগ-বালাই ও দূর্যোগ প্রতিরোধে দিক নির্দেশনা মূলক পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে।ফসলে রোগ বালাই দেখা দিলে আমরা জমিতে গিয়ে কৃষকদের প্রতিরোধ ব্যবস্থার পরামর্শ দিয়ে থাকি।