ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে অর্ধ্বশত নারীকে ‘ফাঁদে’ ফেলেন রুবেল

Wednesday, January 18th, 2023

ঢাকা : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে সখ্য গড়ে তোলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মো. রুবেল রানা (৩৫)। জুনায়েদ রুহানি রুবেল নামে খোলা তার ফেসবুক আইডিতে ভুয়া সব তথ্য ও ছবি দিয়ে ওই ছাত্রীর বিশ্বস্ততাও অর্জন করেন। কিন্তু ওই ছাত্রী যখন জানতে পারেন রুবেল ভুয়া পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়েছেন, তখন যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এরপর রুবেল ওই ছাত্রীকে ভয় দেখানো থেকে শুরু করে আপত্তিকর ছবি-সংবলিত পোস্টার করে সাঁটান ক্যাম্পাসে।

দুর্বিষহ করে তোলেন ওই ছাত্রীর জীবন।

আরেক ভুক্তভোগী ময়মনসিংহের ভালুকার মো. রুবেল খান। তার সঙ্গেও ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে সখ্য গড়েন প্রতারক রুবেল রানা। পরে রুবেল খানের স্ত্রীকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগের কথা বলে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেন প্রতারক রুবেল রানা। এ ঘটনায় ঢাকার পল্লবী থানায় মামলা করেন রুবেল খান। একইভাবে চাকরি দেওয়ার নাম করে ময়মনসিংহের আশরাফুলের কাছ থেকে ২ লাখ এবং নুরুল আমিনের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকাসহ অসংখ্য ব্যক্তির কাছ থেকে রুবেল রানা টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ডিবির তদন্তে উঠে এসেছে এই রুবেলের নানা অপকর্মের তথ্য। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতারক রুবেল নিজেকে কখনো ম্যাজিস্ট্রেট, কখনো মন্ত্রী-এমপির পিএস আবার কখনো বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। তার টার্গেটে ছিল বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া নারী শিক্ষার্থীরাও। রুবেলের খপ্পরে পড়ে প্রায় অর্ধ্বশত নারী প্রতারণার শিকার হয়েছেন। যাদের বেশির ভাগই সামাজিকভাবে মর্যাদাহানির ভয়ে থানায় অভিযোগ করেননি। তবে রুবেলকে গ্রেপ্তারের পর অসংখ্য ভুক্তভোগী ডিবির কাছে অভিযোগ করছেন।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে নামে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরে ১১ জানুয়ারি রাজধানীর ধানমণ্ডি থানা এলাকা থেকে রুবেল রানা ওরফে জুনায়েদ রুহানী ওরফে রুহানী রুবেলকে গ্রেপ্তার করে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।

গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ জানান, প্রতারকদের হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের হাতে গ্রেফতার এই ব্যক্তি কখনো কখনো নিজেকে পরিচয় দিতেন বিভিন্ন মন্ত্রী বা এমপির এপিএস হিসেবে। চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা করে অনেকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় অর্ধকোটি টাকা।

তিন জনের আরেক প্রতারক চক্র বিভিন্ন ভুয়া নিয়োগপত্র দেখাতো। নিজেদের বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিত। লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এই চক্রও ধরা পড়েছে গোয়েন্দাদের জালে। ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের প্রতারণার নানা কৌশলের কথা।

অতিরিক্ত কমিশনার হারুণ অর রশীদ বলেন, সাইবার অপরাধী আর প্রতারকরা বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণা করছেন। গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা প্রতারকদের বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।